মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

১৩

২৬ শে মার্চ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শেখ রাসেল চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে কাট্টলী ডিসি পার্ক, চট্টগ্রামের দক্ষিণ পার্শ্বে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিবস উপলক্ষে সকাল ৮ টায় নগরীর এম. এ. আজিজ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পুলিশ, কারারক্ষী, ফায়ার সার্ভিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সিভিল ডিফেন্স, বি.এন.সি.সি, বাংলাদেশ স্কাউটস, গার্লস গাইড কর্তৃক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিভাগীয় কমিশনার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে সালাম গ্রহণ করেন।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন, অনুষ্ঠিত কুজকাওয়াজে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোঃ তোফায়েল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, আজ থেকে ৫৩ বছর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। গৌরবময় লাল সবুজের পতাকা বাংলাদেশ এবং বহির্বিশ্বে বাঙালীর শাশ্বত অর্জনকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। সেই থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নি¤œ আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে স্বীকৃতি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ লাল সবুজের পতাকা ধারণ করে মহাকাশে অবস্থান করছে। একাধিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের মহেশখালীকে পাওয়ার হাব হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছ। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেলের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে টু টাউন ওয়ান সিটি এবং এটা অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় অন্যতম সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশ দিয়ে তৈরি হয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম নয়নাভিরাম মেরিন ড্রাইভ সড়ক। পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা টু কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমার বর্ডারের ঘুমধুম পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে রেল লাইন। এছাড়াও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৩০ হাজার একর ভূমি নিয়ে তৈরি হয়েছে দেশের সর্ব বৃহৎ ইন্ডাসট্রিয়াল পার্ক বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর। দেশে একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শিল্পায়নে ভূমিকা রাখছে বর্তমান সরকার।

আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসাক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, ডিআইজি নুরেআলম মিনা, পুলিশ সুপার এস. এম. শফিউল্লাহ, মহানগর ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ, জেলা ইউনিট কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সরোয়ার কামাল উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধানসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

দিবসের প্রথম প্রহরে কাট্টলী ডিসি পার্ক, চট্টগ্রামের দক্ষিণ পাশে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনার, সিএমপি কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসনসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.