সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ার অঙ্গীকার মেয়র ডা. শাহাদাতের

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন---ভারতের সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন

২৭

সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ার অঙ্গীকার মেয়র ডা. শাহাদাতের

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, একটি শহরের প্রকৃত নিরাপত্তা কেবল অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিক যখন নির্ভয়ে ও মর্যাদার সঙ্গে চলাফেরা করতে পারেন, তখনই শহর সত্যিকারের নিরাপদ হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক কাউন্সিল (আইসিসিআর)-এর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র জানান, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক “নিরাপদ নগর” গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য। তিনি বলেন, সংস্কৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পায়, যা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন ও পেশাগত প্রশিক্ষণের একটি বড় অংশ ভারতে কাটানোর ফলে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে, যা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই অনেক সময় সংঘাতের সৃষ্টি হয়। তাই শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে সহমর্মিতা বাড়াতে আইসিসিআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সংস্থার বৃত্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ভারতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম ও ভারতের বিভিন্ন শহরের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে নগর ব্যবস্থাপনা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অভিজ্ঞতা বিনিময় করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন বলেন, বর্তমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে সাংস্কৃতিক কূটনীতির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। আইসিসিআর-এর মতো প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। যৌথ সাংস্কৃতিক উৎসব ও শিল্পকলা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ঐতিহ্য আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা সম্ভব। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরীসহ আইসিসিআর স্কলার ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.