পার্বত্য উৎসবে আর ‘বৈসাবি’ নয়, নিজস্ব স্বকীয়তায় পালনের আহ্বান: মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আজ সকালে পার্বত্য অঞ্চলের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলান’ উপলক্ষ্যে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি ঘোষণা দেন, এখন থেকে ‘বৈসাবি’ নামে সমন্বিতভাবে নয়, বরং প্রতিটি সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব স্বকীয় রীতিতে উৎসবগুলো পালন করবে। কোনো ধরনের বৈষম্য যেন না থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি সম্প্রদায়ের এ উৎসবগুলোর মূল বার্তা শান্তি ও সম্প্রীতি। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো সকল সম্প্রদায়ের মানুষ যেন সমান গুরুত্ব নিয়ে তাদের সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে এবং তাদের স্বকীয়তা বজায় থাকে।

উৎসবের সময়সূচী তুলে ধরে তিনি বলেন, ১২ এপ্রিল ফুল বিজু/বৈসু’র মাধ্যমে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হবে, ১৩ এপ্রিল ‘পাঁজন’ রান্নার মধ্য দিয়ে মূল উৎসব পালিত হবে এবং ১৪ এপ্রিল জলকেলি ও আশীর্বাদ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, দেশের সকল উৎসবেই বৈচিত্র্যের সমন্বয় থাকা উচিত। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি উৎসবে ফুটে উঠবে—এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই আমাদের শক্তি। তিনি বলেন, এসব উৎসব শুধু অনুষ্ঠান নয়, বরং মানুষের শেকড় ও পরিচয়ের প্রতিফলন।

এদিকে, আগামী ১২ এপ্রিল রাজধানীর বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে রমনা পার্কের লেক পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পুষ্প বিসর্জন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় এই পদযাত্রা শুরু হবে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সাচিং প্রু, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.