স্বাধীনতার মাসে চট্টগ্রামে চসিকের ১৯ দিনব্যাপী বর্ণিল বইমেলা শুরু
চসিকের উদ্যোগে চট্টগ্রামে ১৯ দিনব্যাপী বইমেলা শুরু
মহান স্বাধীনতার মাস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে ১৯ দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে নগরের কাজীর দেউড়ি জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে এ মেলার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মেলা চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি নৈতিক, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বই মানুষের চিন্তা-চেতনা প্রসারিত করে, মূল্যবোধ গড়ে তোলে এবং নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পাহাড়তলী বধ্যভূমিসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে চসিক কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
মেয়র বলেন, বাংলাদেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকলেও চসিকের আওতাধীন এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের মতো কর্মসূচি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বইমেলার গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, বই কেনায় কেউ দেউলিয়া হয় না, বরং জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি সংস্কৃতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, চসিক পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-লাইব্রেরি চালু রয়েছে।

৪০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে আয়োজিত এ মেলায় ১২৯টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি ডাবল ও ৯৪টি সিঙ্গেল স্টল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকার স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১২টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিচ্ছে।
প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় রয়েছে রবীন্দ্র উৎসব, নজরুল উৎসব, বৈশাখী উৎসব, লেখক সমাবেশ, শিশু ও যুব উৎসব, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান, কবিতা ও ছড়া উৎসবসহ নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বইমেলা মঞ্চে ‘একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষিত জাতির বিকল্প নেই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.