চট্টগ্রামে ডিসির কঠোর হস্তক্ষেপে বকেয়া পরিশোধ, যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের ১৬ লাখ টাকা প্রদান
চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় অবস্থিত জে.পি. সনেট লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন অবশেষে পরিশোধ করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নির্দেশে কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এই অর্থ শ্রমিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর আগে মালিকপক্ষ বিভিন্নভাবে অর্থ জোগাড়ে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস জানান, নানা চেষ্টা করেও অর্থের সংস্থান সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ভুক্তভোগী শ্রমিক মো. মনির হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সার্বক্ষণিক তদারকির কারণে দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়ায় মালিকপক্ষ আর সময়ক্ষেপণ করতে পারেনি।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ডিসির হস্তক্ষেপ না হলে ঈদের আগে শ্রমিকরা তাদের পাওনা পেতেন না।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় যন্ত্রপাতি ও স্টক বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের কঠোর অবস্থানের কারণে ক্রেতাও শেষ পর্যন্ত রাজি হন এবং রাতেই সমঝোতা সম্পন্ন হয়। ভোর ৬টার মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই মালিকপক্ষ বাধ্য হয়েছে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন বকেয়া থাকায় এবং ঈদকে সামনে রেখে তাদের দুর্দশা বিবেচনায় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ঘটনাটি জানার পরপরই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মার্চ প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক তিন মাসের বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানার ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ প্রশাসন, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠকে যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের সরাসরি তদারকিতে ১৮ মার্চ ভোরে প্রায় ১৬ লাখ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে টানা চার দিনের শ্রম অসন্তোষের অবসান ঘটে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.