দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাইলেন ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন–এর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং নগরবাসীর সেবা প্রদান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন–এর দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক সুজান জিন্ডেল (Susanne Giendl) এবং দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক সহকারী মো. মাসুক হায়দারের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ২০০১ সালের পর দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি বলে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যার ফলে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে ধারা তৈরি হয়েছিল, তা নতুন নেতৃত্বে আরও এগিয়ে যাবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বর্তমানে সারাদেশে তিনিই একমাত্র নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি জানান, আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি দায়িত্বে ফিরেছেন। অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একজন মেয়রের সঙ্গে ৪১ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৪ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কাউন্সিলর না থাকায় সেবা প্রদান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। একই দিনে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে হচ্ছে, যা কার্যকর নগর ব্যবস্থাপনায় বাধা সৃষ্টি করছে। তাই দ্রুততম সময়ে চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
প্রতিনিধি দলটি জানায়, বাংলাদেশের জাতীয় আইনি কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে সংসদীয় নির্বাচনের মূল্যায়ন করা হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মিশনটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.