চট্টগ্রামের হকার পুনর্বাসনে আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ার উদ্যোগ চসিক মেয়রের
চট্টগ্রাম নগরীর ক্রমবর্ধমান হকার সমস্যা সমাধান ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে চীনের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন মেয়র। সভায় নিউ মার্কেট ও চকবাজার এলাকাকে প্রাথমিকভাবে আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট স্থাপনের ফিজিবিলিটি স্টাডির সম্ভাব্য এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই নগরীর হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও হকারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নগরজীবনে ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় বেকারত্ব ও দারিদ্র্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, “হকাররা আমাদের সমাজেরই অংশ। তাঁদের মৌলিক অধিকার ও জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমরা টেকসই পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিতে চাই। এ লক্ষ্যে চীনের শেনফেং হোল্ডিংসের সঙ্গে আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে।”
মেয়র জানান, হকার পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে জনবহুল এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। নিউ মার্কেট এলাকায় বিপুল সংখ্যক হকারের উপস্থিতি এবং চকবাজার এলাকায় ক্রমবর্ধমান চাপ বিবেচনায় রেখে এই দুটি স্থান প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, “বিএফআইডিসি রোডে চসিকের মালিকানাধীন আইটি প্রকল্পের আওতায় পূর্বে নির্মিত কিছু অবকাঠামো এখনো পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য হয়নি। সেগুলো আধুনিকায়ন করে পরিকল্পিত আন্ডারগ্রাউন্ড শপিং মল বা মার্কেট হিসেবে গড়ে তোলা গেলে একদিকে হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসন হবে, অন্যদিকে নগরবাসী আধুনিক শপিং সুবিধা পাবে।”
তিনি জানান, একটি চীনা বিনিয়োগকারী গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে চসিকের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। প্রাথমিকভাবে তারা ফিজিবিলিটি স্টাডি পরিচালনা করবে। চসিকের প্রকৌশলীদের সঙ্গে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে সম্ভাব্য স্থানগুলো পর্যালোচনা করা হবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে দ্রুত বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
মেয়র বলেন, “এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জনগণের ভোগান্তি কমানো, নগরকে শৃঙ্খলায় আনা এবং খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। আশা করছি বিদেশি বিনিয়োগে হকার সমস্যার একটি টেকসই সমাধান সম্ভব হবে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন জয়েন উইন এইচকে হোল্ডিংসের সিইও ও চেয়ারম্যান অ্যালান সু, কানাডা হার্বর ক্যাসল রিসোর্টের প্রতিনিধি হু ইয়ংজুন, প্রাইমেস্টার গ্লোবাল লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট হু ঝেংলাই, ভাইস জেনারেল ম্যানেজার লি জিং বো, শেনফেং হোল্ডিংসের সিইও ও চেয়ারম্যান লিউ হংলাই, চেয়ারম্যানের সহকারী তিয়ান হাই গ্যাং, গুয়াংডং হাই টেক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ড. এটিএম আবদুল্লাহ, আনোয়ার হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) আবু সাদাত তৈয়ব, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ শাফকাত আমিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.