মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষি সিন্ডিকেট করে বড় বড় বিল্ডিং বানিয়েছেন, কৃষকদের থাকতে হচ্ছে সেই কুঁড়ে ঘরে— কৃষি উপদেষ্টা
মানিকগঞ্জ, ১২ ভাদ্র (২৭ আগস্ট):
কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, শীত মৌসুমে দেশে প্রচুর সবজি উৎপন্ন হয়। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় সবজি পঁচে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মিনি কোল্ড স্টোরেজে সবজি সংরক্ষণ করা যাবে। মিনি কোল্ড স্টোরেজ কৃষকের ক্ষতি কমাবে।
উপদেষ্টা বুধবার মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া এলাকায় ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষি সিন্ডিকেট করে বড় বড় বিল্ডিং এর মালিক হচ্ছেন। কৃষকদের কুঁড়ে ঘরেই থাকতে হচ্ছে। ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ কেবল ফসল সংরক্ষণ নয়, বরং কৃষি অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মানিকগঞ্জে শীতকালিন সবজি বেশি উৎপাদিত হয় । এই ব্যবস্থায় কৃষক এবং ভোক্তা সরাসরি উপকৃত হবেন। এ মিনি কোল্ড স্টোরেজ পরে আরো বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে কৃষকরা নিজেরাও অল্প খরচে বাড়িতে তৈরি করে নিতে পারবেন। আমরা কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দিব।
নকল ও ভেজাল বীজের ব্যাপারে উপদেষ্টা বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে তিনি কৃষকদের খাল বে-দখল, বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ শুনেন এবং তার প্রেক্ষিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ প্রদান করেন।
কৃষি জমি যাতে অন্য খাতে ব্যবহার না হয়, সে জন্য আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যেই কৃষি জমি সুরক্ষা আইন পাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, ‘শিল্প কারখানা ও অন্যান্য অবকাঠামোর জন্য আলাদা জমি থাকবে। সড়ক অধিগ্রহণের সময় সড়ক বিভাগ জমির মালিককে তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দিলেও এলজিইডি কোনো অর্থ দেয় না। নতুন আইন প্রণয়ন হলে এলজিইডির প্রকল্পেও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা তিনগুণ ক্ষতিপূরণ পাবেন।’
অনুষ্ঠানে কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ছাইফুল আলমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সাশ্রয়ী কোল্ডস্টোরেজ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি প্রকল্প’-এর আওতায় প্রাথমিকভাবে সারাদেশে ১০০টি ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। একটি ঘরভিত্তিক কোল্ড স্টোরেজে ১০ টন পণ্য রাখা যায় এবং খরচ প্রায় ৫ লাখ টাকা। কনটেইনার মডেলের খরচ ১৫ লাখ টাকা। প্রচলিত কোল্ড স্টোরেজের তুলনায় এই মিনি সংস্করণের খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ কম ।
খবর তথ্যবিবরণী ।
#
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.