গ্রামে চিকিৎসার অভাবে কেউ যেন প্রাণ না হারায়: ডা. জুবাইদা রহমান

দেশের গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশে যেন কোনো রোগাক্রান্ত গ্রামবাসী চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারায়, কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা কিংবা নবজাতক চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর শিকার না হয়। এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্বের সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের মানুষ চিকিৎসকদের দিকেই তাকিয়ে আছে। মেধা, শ্রম, অধ্যবসায় ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে চিকিৎসকরা জনগণের প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসকের সংকটের কারণে অনেক মানুষ সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। তবে দেশসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

তিনি বলেন, দেশে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ০ দশমিক ৮৩। ফলে একজন চিকিৎসককে গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ রোগীকে সেবা দিতে হয়। গ্রামাঞ্চলে এই অনুপাত আরও বৈষম্যপূর্ণ। এছাড়া দেশের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে কর্মরত হলেও দেশের প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে নার্সের সংখ্যা মাত্র ০ দশমিক ৫৪৯। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য ২ দশমিক ২৮ জন চিকিৎসক এবং ১ দশমিক ৪৮ জন নার্স থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে দেশে সরকারি চিকিৎসকের অনুপাত প্রতি ৬ হাজার ৫০০ জনে মাত্র একজন, যা স্বাস্থ্যখাতের বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।