পরিবারে স্ত্রী প্রধান উপার্জনকারী হলে স্বামীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে দীর্ঘ ১৭ বছরের তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, বিষয়টি নারীর বেশি আয়ের কারণে নয়; বরং সামাজিক প্রত্যাশা, পারিবারিক দায়িত্বের ভারসাম্যহীনতা এবং প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকার সঙ্গে এর সম্পর্ক বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মজীবী তরুণ দম্পতিদের প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করেন। তবে যেসব পরিবারে স্ত্রীর আয় মোট পারিবারিক আয়ের ৭০ শতাংশ বা তার বেশি, সেখানে স্বামীদের গুরুতর মানসিক চাপে ভোগার ঝুঁকি প্রায় আড়াই গুণ বেড়ে যায়।
একই ধরনের প্রবণতা লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে। অবিবাহিত দম্পতিদের মধ্যে নারী সঙ্গী পরিবারের মোট আয়ের অর্ধেক বা তার বেশি উপার্জন করলে পুরুষ সঙ্গীর বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হওয়ার হার প্রায় দেড় গুণ বেশি।
গবেষকরা শিক্ষা, বয়স ও আয়ের পার্থক্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই প্রবণতার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পাননি।
অন্যদিকে, উচ্চ আয়কারী নারীদের মধ্যেও সম্পর্কের সন্তুষ্টি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, অধিকাংশ পরিবারেই ঘরের কাজের বড় অংশ এখনও নারীদের ওপর বর্তায়। ফলে কর্মক্ষেত্রের দায়িত্বের পাশাপাশি সংসারের কাজও সামলাতে হওয়ায় অনেক নারী ‘দ্বিগুণ বোঝা’ বহন করেন, যা সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আগের এক গবেষণায়ও দেখা যায়, অনেক পরিবারে স্ত্রীর আয় স্বামীর আয়ের ঠিক নিচে অবস্থান করে। গবেষকদের ধারণা, এর পেছনে পুরুষকে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হিসেবে দেখার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারণা কাজ করতে পারে।
আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পরিবারে স্ত্রী মোট পারিবারিক আয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ উপার্জন করেন, সেখানে বিচ্ছেদের ঝুঁকি অন্যান্য দম্পতির তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
তবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিতও মিলছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে খুব অল্পসংখ্যক মানুষই মনে করেন যে স্ত্রীর আয় স্বামীর চেয়ে বেশি হওয়া সমস্যাজনক। গবেষকদের মতে, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা বাড়লেও পারিবারিক দায়িত্বের সমবণ্টন এবং প্রচলিত সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই সম্পর্কের সুস্থতা নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক সমতার পাশাপাশি পারিবারিক দায়িত্বও সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া জরুরি।