দীর্ঘ ১৫ বছর পর বহুল আলোচিত শিশু নেয়ামুল অঙ্গহানি মামলায় দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মোঃ মশিউর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ৫ আসামীকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১২/৩০ ধারায় আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২ আসামীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার অন্যতম স্বাক্ষী মানবাধিকার নেত্রী এডভোকেট এলিনা খান এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এটি একটি মানবিক ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত, যা ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে শিশু নেয়ামুলকে অপহরণ করে তার অঙ্গহানি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আদালত তার রায়ে জরিমানার অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন আদালত।