বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হাম (Measles) সংক্রমণ বাড়তে থাকায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ লায়ন অধ্যাপক ডা. বাসনা মুহুরী। তিনি বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যার নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তাই নিয়মিত টিকাদানই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে দুই ধরনের হামের টিকা পাওয়া যায়—সরকারি ব্যবস্থাপনায় MR (Measles-Rubella) এবং বেসরকারি পর্যায়ে MMR (Measles-Mumps-Rubella)। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অনুযায়ী শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করলে হাম প্রতিরোধে ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ কার্যকারিতা পাওয়া যায়।
অধ্যাপক বাসনা মুহুরী বলেন, সাধারণত ৯ মাস বয়সের আগে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয় না, কারণ এ সময় পর্যন্ত মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডি শিশুকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়ে থাকে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন মহামারী বা প্রাদুর্ভাবের সময় ৬ মাস বয়সের পর টিকা দেওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আবার দুই ডোজ সম্পন্ন করতে হবে।
যেসব শিশু নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা পায়নি, তাদেরও দ্রুত দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন তিনি। প্রথম ডোজের অন্তত এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। একইভাবে, যদি কোনো শিশু প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ মিস করে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব তা দিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর সাধারণত বুস্টার ডোজের প্রয়োজন হয় না। তবে যারা আগে কখনো টিকা নেয়নি এবং পরীক্ষায় (Measles Serology) নেগেটিভ পাওয়া যায়, সেই কিশোর-কিশোরী বা প্রাপ্তবয়স্করাও টিকা নিতে পারবেন।
কিছু ক্ষেত্রে হামের টিকা দেওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুরুতর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসপ্রাপ্ত ব্যক্তি (Severe Immunocompromised) এবং গর্ভবতী নারীদের এই টিকা দেওয়া নিষিদ্ধ।
অধ্যাপক বাসনা মুহুরী বলেন, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও খুব বিরল ক্ষেত্রে হাম হতে পারে, তবে সেটি সাধারণত হালকা মাত্রায় হয়।
হামের চিকিৎসায় ভিটামিন-এ ক্যাপসুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুযায়ী হাম আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন-এ দেওয়া হলে রাতকানা ও সংক্রমণজনিত মৃত্যুহার কমে।
এছাড়া, হামের রোগীর সংস্পর্শে এলে কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি জানান, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৬ দিনের মধ্যে post-exposure prophylaxis দেওয়া হয়, যেখানে MMR টিকা বা Immunoglobulin ব্যবহার করা হতে পারে।
সবশেষে তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “শিশুকে সময়মতো টিকা দিন, সঠিক যত্ন নিন এবং হামের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন।”
বিঃ দ্রঃ তথ্যটি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রস্তুত।