এক সপ্তাহে তিন ডিজেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তৎপর বিপিসি

চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটি-০৫-এ পৌঁছে সফলভাবে খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

এর ধারাবাহিকতায়, চীনের পতাকাবাহী ‘এমটি ইউয়ান জিং হে’ ও ‘শান গাং ফা শিয়ান’ নামের আরও দুটি জাহাজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজ দুটি প্রায় ৬১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ডিজেল বহন করছে, যা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে পাঠানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুর ২টায় ২৭ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন এবং বিকেলে ৩৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে জাহাজ দুটি ডলফিন জেটিতে ভিড়বে বলে জানা গেছে। বিপিসির চারজন কর্মকর্তা এবং হ্যান্ডেলিং প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে খালাস কার্যক্রম তদারকি করবেন।

এ নিয়ে এক সপ্তাহে মোট তিনটি ডিজেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাচ্ছে, যা জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে বিপিসি।

এদিকে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অকটেনবাহী আরও দুটি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিপিসির বণ্টন ও বিপণন বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় চলতি বছর একই সময়ে ডিপো থেকে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিপিসি, জেলা প্রশাসন, বিএসটিআই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক সংকটকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার না করে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিপিসি।