চট্টগ্রামকে সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ, সম্প্রীতিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে জেএমসেন হল-এ বাসন্তী পূজা উপলক্ষে আয়োজিত বসন্ত উৎসব ও মিলনমেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মেয়র বলেন, দায়িত্ব পালনের গত ১৬ মাসে নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘাত ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে। তিনি চট্টগ্রামকে ঐতিহাসিকভাবে সম্প্রীতির শহর উল্লেখ করে বলেন, এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে। দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নগরীকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শুধু দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, এটি বহুজাতিক ও বহু ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করাই সিটি কর্পোরেশনের অঙ্গীকার।
সনাতনী সম্প্রদায়ের সুবিধার্থে নগরীর বিভিন্ন শ্মশানঘাটে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আরও নতুন শ্মশান নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ধর্মীয় আচার নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, কেউ উসকানি বা সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। নাগরিকদের যেকোনো অভিযোগ সংশ্লিষ্ট থানায় জানাতে আহ্বান জানান তিনি।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন না ফেলার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নালা-খাল পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিবাস দাশ সাগর। প্রধান বক্তা ছিলেন মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ কুমার মজুমদার, অধ্যাপক নারায়ণ কান্তি চৌধুরী এবং বিপ্লব দে পার্থ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার দোলন।