দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ৫ বছরে ২০ হাজার কিমি নদী-নালা পুনঃখননের পরিকল্পনা

দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় খালের মাটি কেটে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। সরকারের ঘোষিত এই কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে নদী-নালা, খাল ও জলাধার পুনঃখননের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং খরা মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে সরকার।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে বিমানযোগে Saidpur Airport, নীলফামারীতে পৌঁছান। পরে সেখান থেকে কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় গিয়ে খালের মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং সেখানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন।

পরে তিনি পারিবারিক কবর জিয়ারত করবেন। বিকেলে সুধী-সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার ব্যস্ত দিনসূচি শেষ হবে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল ও জলাধার খননের একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই আধুনিক খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী খালের পানির বৈজ্ঞানিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে আধুনিক সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফসলের ফলন বাড়বে।

এছাড়া খালগুলোতে সারা বছর পানি থাকলে কৃষির পাশাপাশি মাছচাষ ও হাঁস পালনের মতো লাভজনক খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে গ্রামীণ যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

জানা গেছে, দিনাজপুরের সাহাপাড়ায় প্রায় ১২ কিলোমিটার খাল খনন করা হচ্ছে। এর ফলে ওই এলাকার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ বর্ষার অতিরিক্ত বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে উপকৃত হবে।

নতুন এই কর্মসূচিতে খাল খননের পাশাপাশি পাড় রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।