পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন। গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ও খেয়া ঘাটগুলোতে টহল, নজরদারি, তল্লাশি এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বনজ ও মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। বিশেষ করে সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমুদ্র ও নদীপথে অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এরই ধারাবাহিকতায় কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের অধীনস্থ জাহাজ ও উচ্চগতির বোটের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে নিয়মিত টহল ও নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিউআরএফ (কুইক রেসপন্স ফোর্স) ও ডাইভিং টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ বন্দরের তালিকা থেকে নিরাপদ বন্দরে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বহিঃনোঙরে আগত তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের জাহাজ সার্বক্ষণিক টহলে নিয়োজিত রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন বিশেষ অভিযানে ১৪টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৬টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, ৪ রাউন্ড তাজা গোলা, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৬ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজসহ ৩৫ জন ডাকাত ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের ৬ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা, ২ কেজি ২৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস) ও ১৪ কেজি গাঁজাসহ ৩৯ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ডাকাতদের কবল থেকে জিম্মি থাকা ৩২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৭৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২৫ জন মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় কোস্ট গার্ড।
রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ভোজ্য তেল ও খাদ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ঠেকাতে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরে বিভিন্ন অয়েল ট্যাংকার ও লাইটার জাহাজে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর ফলে বাজারে খাদ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলার সদরঘাট, বাংলাবাজার ঘাট, কর্ণফুলী ঘাট, ব্রিজঘাট, কুমিরা ঘাট ও গুপ্তছড়া ঘাট এবং কক্সবাজার জেলার ৬ নম্বর ঘাট, বিআইডব্লিউটিএ ঘাট, আদিনাথ মন্দির ঘাট, মগনামা ঘাট, বড়ঘোপ ঘাট ও দরবার ঘাটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ সময় কোস্ট গার্ড সদস্যরা টহল প্রদান, মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, লিফলেট বিতরণ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধ, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি ও নৌযানে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যাতে ঘটতে না পারে সে জন্য বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে এই নিরাপত্তা কার্যক্রম ঈদ-পরবর্তী সময়েও অব্যাহত থাকবে।
সামগ্রিকভাবে দেশের সুনীল অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে সমুদ্র, উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।