খাতুনগঞ্জে বাণিজ্যমন্ত্রী: ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল, অতিরিক্ত দাম নিলে ব্যবস্থা

বিদেশি ফল আমদানির বিষয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কিছু ফল রয়েছে যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা প্রয়োজন, যেমন আপেল, আঙুর ও কমলা। এসব ফলের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার প্রয়োজনে নীতিগত পদক্ষেপ বিবেচনা করবে। তবে অত্যধিক দামী বিলাসী ফলের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

মন্ত্রী বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি ব্যবসায়ীরাই। সরকারের কাজ হলো ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাজার যেন বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বাজার তদারকির সময় ব্যবসায়ীরা যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

রমজান মাস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মাস ত্যাগ ও সংযমের মাস। তাই ব্যবসায়ীরা যদি মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেন, তবে তা সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

তিনি জানান, চলতি রমজান মাসে ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, যা গত কয়েক দশকের তুলনায় একটি ইতিবাচক উদাহরণ। এজন্য পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে কোথাও কোথাও ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সীমিত বিক্রির অজুহাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রবণতার বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত শোনার জন্যই তিনি খাতুনগঞ্জে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সভায় চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।