পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, উন্নত নিরাপত্তা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও পারকিসহ জেলার সব সমুদ্র সৈকতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পর্যটন উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে গঠিত চট্টগ্রাম বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মেয়র বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে জনমুখী ও দর্শনার্থীবান্ধব করতে হলে প্রথমেই সেখানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি। ইতোমধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সৈকত এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং এসব অভিযানের তদারকি তিনি নিজেও করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করে দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে দোকান স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রস্তাবিত ২৮০টি দোকান এমনভাবে নকশা করা হবে যাতে সমুদ্রের প্রাকৃতিক দৃশ্য আড়াল না হয় এবং পর্যটকদের চলাচলেও কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়। একই সঙ্গে পর্যটকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
মেয়র বলেন, সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে সৈকত এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য ১০ জন আনসার সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বাগান পরিচর্যা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সমুদ্র, পাহাড়, নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের ট্যুরিস্ট স্পটে রূপান্তর করা গেলে তা শুধু চট্টগ্রামের অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং দেশের পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পতেঙ্গা সৈকত চট্টগ্রামের অন্যতম ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থান। এটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। পর্যটকদের নিরাপত্তা, আধুনিক বিনোদন সুবিধা এবং মানসম্মত অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা সৈকত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, এডিসি মো. কামরুজ্জামান, জেলা পরিষদের সিইও চৌধুরী রওশন ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাখাওয়াত জামিল সৈকত, সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মাজহারুল ইসলামসহ সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, টুরিস্ট পুলিশ, ক্যাব এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।