ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতন্ত্র, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার বিকেলে নগরীর চেরাগী পাহাড়স্থ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মহাসচিব জানান, আর মাত্র ১৬ ঘণ্টা পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট একটি নির্বাচনমুখী ও শান্তিপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বরাবরই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, এবার বৃহত্তর সুন্নি জোটের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। চট্টগ্রামের ৬টি সংসদীয় আসনে দলের প্রার্থীরা মোমবাতি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় সুপরিচিত, যোগ্য ও উচ্চশিক্ষিত। তাদের পক্ষে গণমানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও জনসমর্থন দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী কথিত প্রভাবশালী প্রার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, রাঙ্গুনিয়ায় মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইকবাল হাসানের ওপর প্রকাশ্য হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। রাউজানে প্রার্থী মাওলানা ইলিয়াস নুরীর নির্বাচনী প্রচারণায় একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। চন্দনাইশে সর্বজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মাওলানা সোলায়মান ফারুকীকে অর্থ ও নানা হুমকির মাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি জনগণের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি মহল প্রার্থীর সমর্থক, ইসলামী ফ্রন্ট ও ছাত্র সেনার কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদেরও মোমবাতি প্রতীকে ভোট দিলে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
একই ধরনের পরিস্থিতি আনোয়ারা-কর্ণফুলীতেও বিরাজ করছে বলে দাবি করা হয়। সম্প্রতি রাউজানের কদলপুর এলাকায় সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে সাধারণ ভোটার ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। বিএনপি ও জামায়াতের পরিচয়ে কয়েকজন নেতা-কর্মী নির্বাচনের পর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে জানান মহাসচিব।
এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসার ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের হুমকি দেওয়া নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার শামিল এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
স উ ম আবদুস সামাদ আরও বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট একটি সুফিবাদী আদর্শভিত্তিক, অহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাসী দল। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামে দলটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতি করে আসছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি দলের নেতা-কর্মীদের ঘর ও অফিস থেকে ব্যালট ও সিল উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ ভোটাররা উদ্বিগ্ন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, সিলেট, চাঁদপুর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও খুলনাসহ যেসব এলাকায় বৃহত্তর সুন্নি জোট প্রার্থী দিয়েছে, সেখানে তারা বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে।
রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ ও পটিয়ায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়ে মহাসচিব ভোটারদের সব ধরনের অপপ্রচার, উস্কানি ও হুমকি উপেক্ষা করে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মোমবাতি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক সিদ্দিকী, নাসিরুদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক ইউনুস তৈয়বী, এম. মহিউল আলম চৌধুরী, মাওলানা আবদুন্নবী আল কাদেরী, নুরে রায়হান চৌধুরী, ছাত্রনেতা ফরহাদুল ইসলাম, আরমান, আলম রেজা ও আবরার সরকারকান্দি প্রমুখ।