চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, সরকারি কর্মচারীরা কোনো ব্যক্তির গোলাম নন; তারা রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য শপথবদ্ধ। আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নয়, এটি আগামী বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা ও দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হচ্ছে সেই বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণ, যেখানে আমরা, আপনারা এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ থাকবে। এটি নতুন বাংলাদেশের পথে একটি ঐতিহাসিক ধাপ।”
তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। কেউ জিতবে, কেউ হারবে। কিন্তু আমরা—সরকারের কর্মচারীরা—জেতাতে চাই পুরো বাংলাদেশকে, দেশের প্রতিটি মানুষকে।”
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের বিশ্বাস ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আস্থা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কোনো ধরনের গাফিলতি, প্রতারণা বা দায়িত্বে ব্যর্থতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
এই নির্বাচন শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মায়ের বুক খালি করা সন্তানের রক্তের বিনিময়ে এই নতুন বাংলাদেশ। এই বাস্তবতায় দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র গাফিলতি হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
নিরপেক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যা হবে উৎসবমুখর এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ। এই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো নিরপেক্ষতা।”
সরকারি কর্মচারীদের অতীত ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাদের গায়ে অনেক কালি লেগেছে—সেই কালি আজ ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রমাণ করতে হবে, সরকারি কর্মচারীরা শুধু রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেয় না, রাষ্ট্রের জন্য কাজও করে।”
তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, “আমাদের কি সেই সাহস আছে? মেরুদণ্ড আছে? বিবেক আছে?” এ সময় সভায় উপস্থিত সবাই সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে সাড়া দেন।
পক্ষপাতমূলক আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আমাকে যেমন মনিটরিং করা হচ্ছে, ঠিক তেমনই সবাই মনিটরিংয়ের আওতায় আছেন। সুতরাং বি কেয়ারফুল।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ব্যাপক মোতায়েন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে ফোর্স পৌঁছানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আন্দালিব কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, আনসার ও ভিডিপির পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামশেদুল আলম।