চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত এ সভায় নগরের ভৌগোলিক বাস্তবতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট প্রজেক্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন, চট্টগ্রাম ট্রান্সপোর্ট ফিজিবিলিটি প্রজেক্টের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিব, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত, নির্বাহী প্রকৌশলী শাফকাত, আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের প্রধান প্রতিনিধি কাউসার আলম চৌধুরীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রকৌশলী ও জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম একটি পুরোনো ও ঘনবসতিপূর্ণ নগরী হওয়ায় এখানে প্রশস্ত সড়কের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়, খাল, বন্দর এলাকা ও বিস্তৃত ইউটিলিটি লাইন বড় আকারের অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নকে জটিল করে তুলেছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রামের জন্য হালকা, নমনীয় এবং দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য রেলভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বক্তারা জানান, মনোরেলে সরু পিলার ব্যবহার করা হয়, ফলে রাস্তার জায়গা কম লাগে এবং সরু সড়ক, খাল ও পাহাড়ের ওপর দিয়ে তুলনামূলক সহজে নির্মাণ সম্ভব। মেট্রোরেলের তুলনায় এতে ইউটিলিটি স্থানান্তরের প্রয়োজন কম এবং নির্মাণকালে যান চলাচল ও নগরসেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে না। অন্যদিকে মেট্রোরেলের জন্য প্রশস্ত করিডর ও গভীর ফাউন্ডেশনের প্রয়োজন হয়, যা চট্টগ্রামের বাস্তবতায় বেশি জটিল।
সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক নগরী। এখানকার যানজট নগরবাসীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।” তিনি এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের কার্যকর ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করেন।
মেয়র আরও জানান, বর্তমানে একটি প্রারম্ভিক স্টাডি চলমান রয়েছে, যেখানে মনোরেল ছাড়াও চট্টগ্রামের জন্য অন্য কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা অধিক উপযোগী কি না—তা যাচাই করা হবে। তিনি বলেন, “জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। যে ব্যবস্থা সবচেয়ে সাশ্রয়ী, সময়োপযোগী এবং জনগণের জন্য সর্বোচ্চ উপকারী হবে—সেটিই গ্রহণ করা হবে।”
সমন্বিত পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, বিভিন্ন সংস্থার কার্যকর সমন্বয়ের ফলে ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা সমস্যার প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। একই ধরনের সমন্বয় বজায় থাকলে মনোরেলসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে। তিনি পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের জন্য নগর সরকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
সভা শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা, বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম নগরের জন্য ভবিষ্যতে আরও বড় ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।