কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার আলোচিত যুবক এরশাদুল হাবিব রুবেল হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১৯ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে চারজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অপর চারজনকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস প্রদান করা হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়েই উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
ঘটনাটি ঘটে ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর, রমজান মাসে। ইফতারের পর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কুতুবদিয়া থানাধীন বড়ঘোপ ইউনিয়নের মাতবর পাড়া এলাকার বাসিন্দা, মৃত আবুল কাশেমের ছেলে এরশাদুল হাবিব রুবেল রিকশাযোগে বড়ঘোপ বাজার থেকে বেড়িবাঁধ সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কান্দাইল্যা পাড়া এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুতুবদিয়া হাসপাতাল হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া
নিহতের মা ২০০৬ সালের ১৭ অক্টোবর কুতুবদিয়া থানায় ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ৮ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং বাকি ১০ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
প্রথমে কক্সবাজার আদালতে মামলার বিচার চললেও আসামিদের প্রভাবের কারণে সাক্ষ্যগ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
রায়
বুধবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হাজতী আসামি জাহেদুল ইসলাম প্রকাশ ফরহাদ এবং পলাতক আসামি আবু এরশাদ প্রকাশ জুয়েল, রুস্তম আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন প্রকাশ সোহেলকে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪ ধারায় পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বহাল সাপেক্ষে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন আদালত।
হাজতী আসামি জাহেদুল ইসলাম ফরহাদকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি ও সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের আপিল দায়েরের জন্য ৭ দিনের সময় প্রদান করা হয়েছে।
অপরদিকে, আজহারুল ইসলাম প্রকাশ ছোটন (পলাতক), তৌহিদুল ইসলাম আরাফাত, হোসাইন মোহাম্মদ সাজ্জাদ ও মোহাম্মদ সৈয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।
আপিলের ঘোষণা
চারজন আসামির খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক এবং নিহত রুবেলের ছোট ভাই উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষের আইনজীবীরাও রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই রায় কুতুবদিয়াসহ পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।