স্বল্প নিঃসরণকারী দেশ হয়েও দায়িত্বশীলতা দেখাতে চায় বাংলাদেশ: মিথেন নিয়ন্ত্রণে দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রত্যয়

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বাংলাদেশ স্বল্প নিঃসরণকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও মিথেন ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়। বিশেষ করে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে মিথেন নিঃসরণ কমানোর জন্য দেশে বিদ্যমান গবেষণালব্ধ পদ্ধতি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সোমবার সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘আইওটি বেইজড ৪এফ মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের খরাপ্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত সেমিনার ও ‘৪এফ মডেল’-এর রেপ্লিকা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে মিথেন নিঃসরণ একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হলেও তা নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর গবেষণা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশে রয়েছে। এসব প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করা গেলে বাংলাদেশ প্রমাণ করতে পারবে যে, উন্নয়নশীল দেশ হয়েও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন সম্ভব।

তিনি জানান, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের সহায়তায় বিএলআরআই ‘৪এফ মডেল’ ভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই মডেলের মাধ্যমে ঘাস থেকে পশুখাদ্য, খাদ্য, জ্বালানি (বায়োগ্যাস) ও জৈবসার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ক্ষুদ্র কৃষক পর্যায়েই এটি বাস্তবায়নযোগ্য হওয়ায় একদিকে মিথেন নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।

বিদেশ থেকে মাংস আমদানির বিষয়ে সতর্কতা জানিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, অনেক দেশ স্বল্পমূল্যে তাদের উদ্বৃত্ত মাংস বাংলাদেশে রপ্তানি করতে আগ্রহী। তবে বিদেশি মাংস আমদানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে এবং এতে দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, সাবান-শ্যাম্পুর মতো শিল্পপণ্য হিসেবে উৎপাদিত মাংস নয়, বরং দেশীয় পরিবেশে খাপ খাওয়ানো গবাদিপশুই দেশের জন্য অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে মৌলিক ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার সুফল অদূর ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএলআরআই’র মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) গাজী মো. ওয়ালি-উল-হক। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার।