অপকর্ম করে কোনো গোষ্ঠী বা দল পার পাবে না: নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ

কোনো গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দল অপকর্ম করে পার পেয়ে যাবে—এমন সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা সেলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে অপারেশনগুলো পরিচালনা করছে, সেগুলো অপারেশনের পরপরই গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। এতে কোনো গোষ্ঠী বা দল অপকর্ম করে পার পাওয়ার আশায় উৎসাহিত হবে না। তারা জানবে, অপরাধ করলে ধরা পড়তেই হবে এবং বিষয়টি শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্রের চলাচল বেড়ে যায় এবং সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর উদ্ধারকৃত অস্ত্রের হার প্রায় ৮৫ শতাংশ হলেও এখনও আনুমানিক ১৫ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রায় ৭০–৭৫ শতাংশ উদ্ধার করা গেলেও বাকিগুলো এখনো মাঠে রয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়ে।

নির্বাচনকে ঘিরে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যবহার বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ক্যাম্পভিত্তিক কিছু কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র প্রবেশ করলে তা ক্যাম্পে লুকিয়ে রাখা সহজ হয়, যা শনাক্ত করা কঠিন। তাই রোহিঙ্গাদের চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমদ খাঁনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।