ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ চেয়ারম্যান তরুণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে, গতকাল সোমবার রাউজানের যুবদল নেতা জানে আলম খুনের ঘটনা বালু ব্যবসার দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রাউজানে গত দেড় বছরে সংঘটিত অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডই বালু ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে হয়েছে।
তিনি পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, ৬ জানুয়ারী রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টায় চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নস্থ অলিমিয়া হাট বাজারের দক্ষিণে, জলিল নগর নোয়াপাড়া সড়কে স্থানীয় যুবদলের জানে আলম সিকদার (৪৮)—অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে মর্মান্তিক ভাবে নিহত হন। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই প্রাণহানি কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তবে সত্যের খাতিরে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। নিহত জানে আলম স্থানীয় যুবদলের নেতা ছিলেন এবং তিনি জনাব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পূর্ব গুজরা এলাকায় একাধিক প্রবাসীর কাছ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে লুঙ্গি জানে আলম গ্রেফতারও হন। উল্লেখ্য, এই পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত ছবিতে এবং ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে—জানে আলম দলবল নিয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছুদিন আগেই ছড়িয়ে পড়েছিল। স্থানীয় সূত্র ও জানে আলমের সহকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি জনাব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর আরেক অনুসারী, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইউসুফ তালুকদারের সঙ্গে বাগোয়ান ইউনিয়নে বালু ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গত সাত দিন ধরে জানে আলম ও ইউসুফ তালুকদারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। গতকালও বাগোয়ানে ইউসুফ তালুকদারের কর্মীদের সঙ্গে জানে আলমের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
সব তথ্য বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, এই হত্যাকাণ্ডটি মূলত একই গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বালুর চাঁদাবাজি সংক্রান্ত স্বার্থবিরোধী দ্বন্দ্বের ফল। উল্লেখ্য, রাউজানে গত দেড় বছরে সংঘটিত অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডই বালু ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে হয়েছে। এসব ঘটনায় বারবার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের দায় অন্যদের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে—যেমনটি কয়েক মাস আগে ঘটে যাওয়া হাকিম হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রশাসন সে ঘটনায় কারা প্রকৃতভাবে জড়িত ছিল, তা স্পষ্টভাবে উদঘাটন করেছে।
বিবৃতিতে ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এসব হত্যাকান্ডের পেছনে কারা প্রকৃতভাবে জড়িত এবং উদ্দেশ্য কী, স্থানীয় এলাকাবাসী সবাই ভালোভাবেই অবগত আছে। আমরা সবসময় পজিটিভ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। সহিংসতা, সন্ত্রাস ও প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়—আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চাই হোক আমাদের পথচলা।
এটিকে অনলাইনে প্রকাশের জন্য একটি শিরোনাম সহ নিউজ তৈরী করেদিন