বালু ব্যবসার দ্বন্দ্বের জেরে রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম হত্যা: অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ইঙ্গিত ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকারের

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার হত্যাকাণ্ডের পেছনে বালু ব্যবসা ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই মূল কারণ বলে দাবি করেছেন ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও তরুণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, স্থানীয় এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে গতকাল রাতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড বালু ব্যবসা কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের ফল। রাউজানে গত দেড় বছরে সংঘটিত অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডই বালু ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়া হাট বাজারের দক্ষিণে জলিলনগর–নোয়াপাড়া সড়কে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে স্থানীয় যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার (৪৮) নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার বলেন, “এই ধরনের মর্মান্তিক প্রাণহানি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”

তবে সত্য উদঘাটনের স্বার্থে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিহত জানে আলম যুবদলের নেতা ছিলেন এবং তিনি সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর একজন অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পূর্ব গুজরা এলাকায় প্রবাসীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে জানে আলম গ্রেফতারও হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জানে আলমকে দলবল নিয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা চালাতে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্র ও তার সহকর্মীদের তথ্যমতে, জানে আলম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইউসুফ তালুকদারের সঙ্গে বাগোয়ান ইউনিয়নে বালু ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। এই বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গত সাত দিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এমনকি ঘটনার দিনও বাগোয়ানে উভয় পক্ষের কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

সব তথ্য বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, এই হত্যাকাণ্ড একই গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বালু ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত স্বার্থবিরোধী দ্বন্দ্বের ফল বলেই ধারণা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার।

তিনি বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা প্রকৃতভাবে জড়িত এবং উদ্দেশ্য কী—তা স্থানীয় এলাকাবাসী ভালোভাবেই জানে। অতীতেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের দায় অন্যদের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা দেখা গেছে, যা পরে প্রশাসনিক তদন্তে ভিন্নভাবে উদঘাটিত হয়েছে।”

বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, “আমরা সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চাই হোক আমাদের পথচলা।”