চবির জোবরা এলাকায় ১৪৪ ধারা : চলছে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, দিবা-রাত্রি দফায় দফায় সংর্ঘর্ষে প্রো-ভিসি, প্রক্টর, সাংবাদিক সহ কয়েকশ আহত: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে- প্রো-ভিসির অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জোবরা গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় বোববার দুপুর ২টা থেকে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা করেছে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন ফৌজদারী কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ১৪৪ ধারা এই ১৪৪ ধারা জারি করেন। এতে এলাকায় সকল প্রকার সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও সকল প্রকার দেশীয় অস্ত্র বহন এবং ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান কিংবা চলাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।


১৪৪ ধারা জারির পর বিকেল থেকে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করেছে সে সাথে যৌথ বাহিনী আটকা পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার অভিযান ও চালাচ্ছে।
শনিবার রাতে এবং রোববার দিনজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেট এবং জোবরা গ্রামে চবি শিক্ষার্থীদের সাথে গ্রামবাসীর দফায় দফায় সংর্ঘর্ষে চবি উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, সাংবাদিক, বিশ্বদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনীসহ কমপক্ষে ৩শতাধিক আহত হয়েছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮১জন কে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্বদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ৩শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।


উল্লেখ্য,শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে দর্শন বিভাগের এক ছাত্রী ভাড়া বাসায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে দারোয়ানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও পরে ছাত্রী মারধরের শিকার হন। খবর পেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গেলে পাল্টা মারামারি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। পাল্টা জবাবে শিক্ষার্থীরাও সোহরাওয়ার্দী হল মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হলে গ্রামবাসী ও ছাত্রদের মধ্যে সংর্ঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়ে চবি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন। গুরুতর কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, রাত ১২টার দিকে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা টিম ঘটনাস্থলে গেলেও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি না থাকায় সংর্ঘর্ষ বাড়ার অন্যতম কারণ।
এদিকে রাতের ঘটনার প্রতিবাদে সকাল ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ১নং জিরো পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচী শুরু করলে । সে সময় খবর আসে ২নং গেটে শিক্ষার্থীরা আটকা পড়েছে, এতে শত শত শিক্ষার্থী ১২টার দিকে দুই নম্বর গেট এলাকায় আটকা পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গেলে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। সেসময় চবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আইশৃংখলা বাহিনীর সহায়তা চাইলেও কোন সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন চবির উপ- উপাচার্য ও প্রক্টর। দুপুরে স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের উপর রামদা-লোহা দিয়ে ঝাপিয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে চবি উপ-উপাচার্য, প্রক্টর-সহ দেড়শতাধিক আহত হয়।
চবির উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন কান্না করে মিডিয়াকে বলেছেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডাররা পরিকল্পিত ভাবে জোববার গ্রামে এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে।