চট্টগ্রামে সিডিএ পাবলিক স্কুলে ইংরেজি মাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত, অনিশ্চয়তায় ২৮৪ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ–

অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ইংরেজি মাধ্যমে ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত, সিডিএ চেয়ারম্যানকে স্মারকলিপি

৬২

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ইংরেজি মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্তে উদ্বেগে পড়েছেন অভিভাবকেরা। বর্তমানে ইংরেজি মাধ্যমে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া অথবা অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে সিডিএ চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন অভিভাবকেরা।

ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল অর্জন, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে সন্তানদের চট্টগ্রামের চান্দগাঁও সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন অভিভাবকেরা। কেউ নার্সারি থেকে, কেউ প্রাথমিকের বিভিন্ন শ্রেণিতে। বছরের পর বছর একই মাধ্যমে পড়াশোনা করে মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল শিশুরা। কিন্তু হঠাৎ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে সেই স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ইংরেজি মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি বর্তমানে ইংরেজি মাধ্যমে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যথায় তাদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে।

এতে বিপাকে পড়েছেন কয়েক বছর ধরে ইংরেজি মাধ্যমে সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে আসা অভিভাবকেরা। সামনে বার্ষিক পরীক্ষা। এরপর নতুন শ্রেণিতে ওঠার প্রস্তুতি। এমন সময়ে পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তাঁরা। হঠাৎ মাধ্যম পরিবর্তন কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি—কোনোটিই সহজ সিদ্ধান্ত নয় বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা।

অভিভাবকদের দাবি, বর্তমানে নার্সারি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে ইংরেজি মাধ্যমে ২৮৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এত শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীসংকটের যুক্তিতে ইংরেজি মাধ্যমের কার্যক্রম সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের অভিযোগ, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।

এ অবস্থায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন অভিভাবকেরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ইংরেজি মাধ্যমে ভর্তি বন্ধের বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা। অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

অভিভাবকদের ভাষ্য, চান্দগাঁও সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি মাধ্যমের দীর্ঘদিনের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশের ওপর আস্থা রেখেই তাঁরা সন্তানদের এখানে ভর্তি করিয়েছেন। অনেকের পরিকল্পনা ছিল মাধ্যমিক পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করানোর। এখন হঠাৎ বিদ্যালয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তাঁদের জন্য আর্থিক, মানসিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে নার্সারি কিংবা প্রাথমিক শ্রেণি থেকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে আসা শিক্ষার্থীদের হঠাৎ বাংলা মাধ্যমে স্থানান্তর করলে পাঠ্যবিষয় বুঝতে ও নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকেরা। অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সমমানের ভালো ইংরেজি মাধ্যমের প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া এবং সেখানে ভর্তি নিশ্চিত করাও কঠিন বলে মনে করছেন তাঁরা।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা। শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রয়োজনে বেতন বাড়ানোর বিষয়েও অভিভাবকেরা ইতিবাচক। তাঁদের দাবি, ইংরেজি মাধ্যমের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষেরও কোনো ঘাটতি নেই।

অভিভাবকদের প্রশ্ন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ, প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিনের সুনাম থাকা সত্ত্বেও কেন ইংরেজি মাধ্যম বন্ধের পথে হাঁটছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলে তা বাড়ানোর উদ্যোগ, শিক্ষার মান উন্নয়ন কিংবা অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিকল্প সমাধান খোঁজা যেত কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।

স্মারকলিপিতে সিডিএ চেয়ারম্যানের কাছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং চান্দগাঁও এলাকায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

অভিভাবকদের প্রত্যাশা, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে যেন বর্তমানে অধ্যয়নরত ২৮৪ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হয়। নতুন শ্রেণিতে ওঠার আগেই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ইংরেজি মাধ্যম চালু রাখার কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমন আশায় রয়েছেন তাঁরা।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.