টেকনাফ সীমান্তে ১৪ লাখ ইয়াবার বিশাল চালান জব্দ, আটক ২
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে নৌকায় করে পাচারের সময় ১৪ লাখ পিস ইয়াবার একটি বড় চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় দুই ইয়াবা পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হ্নীলা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা জব্দ করে। অভিযানে নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।
বিজিবি জানায়, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে হ্নীলা সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে বিজিবির একটি বিশেষ দল সুইচ গেট এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।
এ সময় সন্দেহজনক একটি নৌকার গতিবিধি লক্ষ্য করে সেটিকে থামার সংকেত দেন বিজিবি সদস্যরা। নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরে নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।
তবে সন্দেহ হওয়ায় নৌকাটি আরও নিবিড়ভাবে তল্লাশি ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পানিতে ভাসমান কয়েকটি বস্তুর সন্ধান পান বিজিবি সদস্যরা। বস্তাগুলো উদ্ধার করে তল্লাশি চালিয়ে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ১৪০টি কার্টনে মোট ১৪ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাতের আঁধারে মাদক পাচারে ব্যর্থ হয়ে পাচারকারীরা দিনের বেলায় জেলের ছদ্মবেশে নৌকায় করে ইয়াবার চালানটি পাচারের চেষ্টা করে। ইয়াবা নৌকার ভেতরে না রেখে দড়ির সাহায্যে বস্তাগুলো পানিতে ভাসিয়ে নৌকার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছিল। পাচারকারীরা কৌশল পরিবর্তন করে দিনের বেলায় জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করলেও বিজিবির তৎপরতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জব্দ করা ইয়াবা, নৌকা ও আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.