কাতালগঞ্জে জলাবদ্ধতা নিরসনে হিজড়া খাল সংস্কার জোরদার, দ্রুত শেষের নির্দেশ মেয়রের

চট্টগ্রাম নগরীর কাতালগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ‘হিজড়া খাল’ সংস্কার ও খনন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে মেয়র খালের চলমান কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন।

মেয়র বলেন, গত বর্ষা মৌসুমে নগরীর অন্যান্য এলাকায় জলাবদ্ধতা কিছুটা কমলেও কাতালগঞ্জে পানি জমে ছিল। তিনি নিজে এলাকায় নালা পরিষ্কার করে সমস্যার উৎস খুঁজে দেখেছেন এবং বুঝতে পেরেছেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য খালের স্বাভাবিক প্রস্থ পুনরুদ্ধার করা জরুরি।

তিনি জানান, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের অধীনে ৩৬টি খাল খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই সংস্কার কাজ চলছে। গোল পাহাড় ও মেহেদীবাগ থেকে উৎপন্ন হয়ে চকবাজার ও কাপাসগোলা হয়ে ফুলতলী-চাক্তাই খালে গিয়ে মিশেছে হিজড়া খালটি। একসময় প্রায় ৩০ ফুট প্রশস্ত থাকলেও অবৈধ দখলের কারণে অনেক স্থানে এটি ১২ থেকে ১৫ ফুটে নেমে এসেছে। বর্তমানে আরএস, পিএস ও বিএস ম্যাপ অনুযায়ী খালটির মূল প্রস্থ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।

বৃহত্তর জনস্বার্থে খালের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা আংশিক অপসারণের কথাও জানান মেয়র। তিনি বলেন, সংস্কার কাজের জন্য সাময়িক ভোগান্তি হলেও আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ এলাকা জলাবদ্ধতামুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া চট্টগ্রামকে একটি ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে ১৬০০ কিলোমিটার ড্রেন উন্নয়ন এবং আধুনিক সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসবে বলেও মন্তব্য করেন মেয়র।

পরিদর্শনকালে চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং তারা বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.