নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট স্থগিত, ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মসূচি বন্ধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাস নির্বিঘ্ন রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকনের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, শেড, টার্মিনাল ও বহির্নোঙরে লাইটারিংসহ সব কার্যক্রম পুনরায় সচল হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সন্তোষজনক আলোচনার প্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। তবে উল্লিখিত পাঁচটি সমস্যার সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
পাঁচটি সমস্যা হলো— বন্দর কর্তৃপক্ষের পাঁচ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক মামলা, ১৫ কর্মচারীকে বিভিন্ন বন্দরে বদলি, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বাসা বরাদ্দ বাতিল এবং ১৬ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিষয়ে মাননীয় উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ও বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী বর্তমান সরকারের আমলে কোনো চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন ব্যানারে একাধিক দফায় কর্মবিরতি ও ধর্মঘট পালন করা হয়। সর্বশেষ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হলে বন্দরের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে স্কপ সমর্থন জানায় এবং বিজিএমইএসহ শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ও বন্দর ব্যবহারকারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। একইদিন ঢাকায় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ও বিডার চেয়ারম্যান পৃথকভাবে ব্রিফিং দেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.