উপদেষ্টার আশ্বাসে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের আশ্বাসে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ঘোষিত কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়া বন্দরে ধীরে ধীরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের বার্থিং রুমে নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বন্দর চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠক শেষে সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানান, নৌপরিবহন উপদেষ্টা তাদের দাবিগুলো সরকারকে অবহিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দেওয়া শাস্তিমূলক বদলি আদেশ স্থগিত রাখার কথাও বলেছেন।
তিনি বলেন, রমজান মাসসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উপদেষ্টা মহোদয় সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। শনিবারের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না এলে রোববার থেকে পুনরায় কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বন্দর ভবনে পৌঁছালে তার গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ করেন বন্দর শ্রমিকরা। শ্রমিকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, তিনি শ্রমিক নেতাদের কথা শুনবেন এবং দেশের কোনো ক্ষতি হোক তা চান না। পরে দুপুরে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক না করেই তিনি বন্দর ভবন ত্যাগ করেন। এ সময় বন্দর এলাকায় শ্রমিকরা মিছিল ও বিক্ষোভ করেন।
উল্লেখ্য, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সরকারি প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে শনি ও সোমবার প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার থেকে প্রথমে ২৪ ঘণ্টার এবং পরে টানা কর্মবিরতি শুরু হলে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে জাহাজ আনা-নেওয়া, আমদানি পণ্য ডেলিভারি, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং এবং রপ্তানি পণ্য শিপমেন্ট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীরা সরকারের প্রতি আলোচনার আহ্বান জানান। এর পরদিনই নৌপরিবহন উপদেষ্টা চট্টগ্রাম বন্দরে আসেন।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.