নায়েব সুবেদার মোতালেব হত্যায় জড়িত সবাইকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে: র্যাব ডিজি
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান বলেছেন, নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে জুডিশিয়াল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। মামলার রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি র্যাব সার্বক্ষণিকভাবে মনিটর করবে।
মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় র্যাব-৭ কার্যালয়ে নায়েব সুবেদার মোতালেবের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মানুষের জানমাল নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধ দমনে র্যাব অন্যান্য নিয়মিত বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে। নায়েব সুবেদার মোতালেব শহীদ হওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং বিচারিক কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য থেকে মুক্ত করা হবে।
র্যাব ডিজি জানান, ২০০৪ সালে র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৭৫ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন। নায়েব সুবেদার মোতালেবের শাহাদাতে সেই সংখ্যা আরও একজন বেড়েছে। যেকোনো ঝুঁকি নিয়েও বাহিনীর সদস্যরা দেশের নিরাপত্তায় কাজ করে যাবেন।
জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে জুলাই–আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিপুলসংখ্যক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রতিটি অভিযানে ঝুঁকি থাকে। সলিমপুরের ঘটনায় আত্মরক্ষার অধিকার থাকা সত্ত্বেও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গুলি চালানো হয়নি, কারণ এতে সাধারণ মানুষের হতাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তিনি জানান, অভিযানে কোনো ভুল বা ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। শহীদ মোতালেবের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি পূরণ সম্ভব না হলেও র্যাব সবসময় তাদের পাশে থাকবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব ডিজি বলেন, অভিযানের সময় মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়। ভিডিও ফুটেজে মাইকের ব্যবহার শোনা গেছে এবং একটি রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে ঘোষণা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযানে প্রায় ৫০ জনের বেশি সদস্য ছিলেন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে অভিযানের কৌশল আরও উন্নত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের এই অভয়ারণ্য উচ্ছেদে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন, জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে যত সময়ই লাগুক, সন্ত্রাসীদের এই আস্তানা নির্মূল করা হবে। কারণ কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীই রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী নয়।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.