শাহজাহান চৌধুরীর পুলিশ–নিয়ন্ত্রণ মন্তব্যেই জামায়াতের নীলনকশা উন্মোচিত—- আবুল হাশেম বক্কর
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্যেই প্রমাণিত হয়েছে যে তারা প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সাজানো নির্বাচনের নীলনকশা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নির্বাচন বিলম্বিত করা, প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ও ধর্মকে রাজনৈতিক ফায়দায় ব্যবহারের চেষ্টায় লিপ্ত।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর লালদিঘীস্থ জেলা পরিষদ চত্বরে চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে কোতোয়ালি থানা বিএনপির আয়োজিত গণসংযোগ-পূর্ববর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বক্কর বলেন, “শাহজাহান চৌধুরী বলছেন, পুলিশ প্রশাসন তার কথায় উঠবে-বসবে—এতেই পরিষ্কার, তারা কেন্দ্র দখল ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। শেখ হাসিনা প্রশাসনকে ব্যবহার করে যেভাবে রাতের অন্ধকারে ভোট করেছে, জামায়াতও সেই পথেই হাঁটছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজাকারের বংশধর হয়েও তিনি হুমকি দিতে পারেন। চট্টগ্রামের মানুষ তার অতীত ভুলে যায়নি।”
গণসংযোগে মানুষের ঢল
জুমার নামাজের পর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। সনাতনী সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষও এতে অংশ নেন। মুহূর্তেই লালদিঘী এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। শুরুতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ শেষে বক্কর নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে লালদিঘী পাড় থেকে বক্সির বিট, আন্দরকিল্লা মোড়, চেরাগি মোড় হয়ে প্রেসক্লাব পর্যন্ত গণসংযোগ করেন এবং পথচারী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। তিনি নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার নির্দেশ দেন।
জামায়াতের তৎপরতা পর্যবেক্ষণে বিএনপি
বক্কর দাবি করেন, জামায়াত প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে নিজস্ব লোক বসানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি এসব তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সভাপতিত্ব ও বক্তারা
কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবদুল মান্নানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.